ঊষাকূলে
- মাহফুজ ইসলাম সাকিব
খোদার দুয়ার থেকে ফিরে প্রকৃতির মাঝে,
ইতিমধ্যে হাজির ঊষাকূলে;
জিকির-আজকারে মুখর পক্ষীকুল,
পবিত্র সুরে ভরে ভোরের কূলে।
বিতাড়িত শয়তান হতে চাই পানাহ,
আরজি জানাই খোদার দুয়ারে;
আম্মার পাঠানো মক্তবের পথে,
নূরের শিক্ষা হৃদয় ভরে।
মৌলভি বলিলেন—
"আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম।"
শুরু হোক জীবন খোদার নামে,
দূরে যাক শয়তানের তাগিদ।
মক্তবে দিলেন দীক্ষা—
গুরুজনে করো সেলাম,
ছোটজনে করো স্নেহ;
মাতা-পিতার খেদমত করে
হও ওলি-আউলিয়ার গেহ।
তিমির নিশায় মা শয়নিয়ত,
দাঁড়ায় বায়েজিদ পানি হাতে;
জাগিয়া দেখিলেন তৃষ্ণার্ত জননী,
সন্তান তখনও সেবার প্রহর গোনে।
বলিলেন—
"পরো দিন আসবে,
শিখে হাদিস নম্বর এক হতে পাঁচ;
পুলসিরাতের পাল্লার হিসাব নেব,
দেখিব— কী সঞ্চয় করেছ
খোদার সান্নিধ্যে আজ।"
আজকাল দেখি নেই সে মক্তব,
নেই ভোরবেলার পাখির কলরব;
ঘুমন্ত শৈশব কী করে হবে
আবু হানিফা কিংবা জাবির ইবনে হাইয়ান?
মুয়াজ্জিনের আহ্বানে ভাঙে না ঘুম,
বরং বিরক্ত— খোদার নাফরমান;
দিন হয় রাত, রাত হয় দিন,
বিশৃঙ্খল জীবন, বিভ্রান্ত প্রাণ।
সন্তানকুল হারায় দিশা,
ঊষা আসে প্রতিদিন;
তবু গভীর নিদ্রায় শায়িত
অসংখ্য বালক-বালিকা দিনদিন।
বঙ্গদেশের প্রেম মোদের,
তবু নেই বঙ্গদর্শন;
সংস্কৃতি গেছে পাল্টে আজ,
চারিদিকে অপসংস্কৃতির বিস্তার অনুক্ষণ।
শিশুমুখে আর শোনা যায় না—
"সবার আগে উঠব আমি,
সকালবেলার পাখি আমি।"
ঊষাকূলে আমি হাজির,
ঘুমন্ত শিশুর কাঁধে বইয়ের বোঝা,
হাতে নোটের ভার;
বেদনার সুরে নীরব পক্ষীকুল,
হারিয়েছে ভোরের কলতান।
দেখা আর মেলে না
সেই নির্মল শৈশবের হাসি;
শিশুর যাতনা বুঝল কি শুধু
নীরব প্রকৃতি আর আকাশবাসী?
হে প্রভু!
ফিরিয়ে দাও সে ঊষার আলো,
ফিরিয়ে দাও মক্তবের দীক্ষা;
জ্ঞান, আদব, ইমান আর ভালোবাসায়
জাগুক আবার বাংলার শিশুদের শিক্ষা।
২১-০৭-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।